বাংলা ৫টি রুপকথার গল্প - Bangla Rupkothar Golpo 2023

বাংলা ৫টি রুপকথার গল্প - Bangla Rupkothar Golpo 2023

বাংলা ৫টি রুপকথার গল্প - Bangla Rupkothar Golpo 2023

1. সাহসী সামদ্রুপ?

সে অনেক কাল আগের কথা, দূর হিমালয়ের কোলে ছিল এক ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে বাস করত সামদ্রুপ নামে এক অসীম সাহসী তরুন। সারা দিনমান চমরী গাই চড়াত আর রাতে চুলার পাশে বসে বসে চাদর বুনত। গ্রামে সবাই তাকে ভীষণ পছন্দ করত। একবার হয়েছি কি সামদ্রুপ এর দাদীর ভীষণ অসুখ, এখন কি করা। বদ্দি যে পথ্যি আনতে বলল তা তো শহর ছাড়া পাওয়া যায় না আর শহরে যেতে সময় লাগে দুই দিন এক রাত। সে যে দূরের উপত্যাকায় শহর। সামদ্রুপ এর গাঁয়ের সবাই প্রয়োজনে দল বেধে শহরে যেত, একা একা কেউ যেত না। কারন শহরে যাওয়ার পথে ছিল পদে পদে বিপদ। পাহাড়ি রাস্তা আর গিরি খাতের বাঁকে বাঁকে বন্য পশু, ইয়েতি ছাড়াও ছিল ভূতের ভয়। কিন্তু সামদ্রুপ তার দাদীকে ভীষণ ভালবাসত তাই সে ঝুকি নিয়েও তৈরি হল শহরে যেতে। খুব সকাল সকাল সূর্য যখন পাহাড়ের বরফ ঢাকা চূড়া গুলোকে সোনালি আভায় আলোকিত করতে শুরু করেছে তখন ই সে রওয়ানা দিল শহরের পথে। বাড়ির সবাই তাকে পই পই করে বলে দিল সাবধানে থাকতে। সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে, ফুল পাখিদের সাথে কথা বলতে বলতে আর নিজের মনে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে সে এসে পৌঁছাল পাহাড়ের ঢালে, রাতটুকু হাতলে কাল দুপুর দুপুর পৌঁছে যাবে শহরে। ওইদিকে সূর্য হঠাত করেই চলে গেল পাহাড়ের আড়ালে। সাহসী সামদ্রুপ তারপরও হাঁটতে লাগলো তার নিজের গন্তব্যের দিকে। মাঝরাতে চাঁদের ঘোলা আলোয় পাহাড়ে পাইনের বনের ধারে হঠাত তার দেখা হল এক ভূতের সাথে। কে রে তুই? এত রাতে কোথায় যাচ্ছিস? খ্যানখ্যানে গলায় হেঁকে উঠল ভূত। হে হে আমায় চিনলে না, আমি ওই দূর পাহাড়ের কাছে যে পুরানো ঝং আছে সেই ঝং এর ভূত। মনে মনে ভয় পেলেও মুখে তা প্রকাশ করল না সামদ্রুপ। ভূত তাকে বিশ্বাস করল, আর উপস্থিত বুদ্ধির জোরে আপাতত রক্ষা পেল সামদ্রুপ। ভূতের হাতে ছিল এক বিশাল বস্তা। ভূত সামদ্রুপকে বস্তাটা কাঁধে নিয়ে হাঁটতে বলল। মনে মনে রাগ হলেও কিছুই করার নাই তাই সামদ্রুপ ভূতের কথা মতই কাজ করল। আশ্চর্য ব্যাপার, এত্ত বড় বস্তা অথচ বাতাসের মত হালকা, নিজের মনেই বলল সামদ্রুপ। এরপর তারা একসাথে হাঁটতে শুরু করল। কিছুদূর যাওয়ার পর ভূত বেশ খোশ মেজাজে গল্প শুরু করল। ইয়ে এই বস্তাটা এত্ত বর কিন্তু এক্কেবারে হালকা, মিনমিন করে বলল সামদ্রুপ। আরে বোকা হালকা তো হবেই, ওর মাঝে আছে শুধু রাজকন্যার আত্মা, আমি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছি, খ্যানখ্যানিয়ে বলে উঠল ভূত। বলছ কি? আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করল সামদ্রুপ। হ্যাঁ রে, আর এই জন্যই তো রাজকন্যা ভীষণ অসুস্থ, হাসিমুখে উত্তর দিল ভূত। ওমা তাহলে তো রাজকন্যা আর বাঁচবে না, সভয়ে আবারও বলল সামদ্রুপ। পৃথিবীর কোন বদ্যির সাধ্য নাই এই আত্মা ছাড়া ওকে বাঁচানোর, সদম্ভে উত্তর দিল ভূত। হুম, আস্তে করে বলল সামদ্রুপ। হঠাৎ করেই দয়ালু সামদ্রুপ এর মনটা ভারী হয়ে উঠল রাজা আর রাজকন্যার জন্য। সে করল কি সুযোগ বুঝে হুট করে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল গম ক্ষেতে। এদিকে ভূত তো রেগে অস্থির, কিন্তু বেশীক্ষণ খোঁজাখুঁজির সুযোগ পেল না। কারন দিনার আলো ফুটতে শুরু করেছে। আলো এসে ভুতের গাঁয়ে পড়ার সাথে সাথেই সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। কালবিলম্ব না করে সামদ্রুপ দৌড় দিল রাজার প্রাসাদে। আত্মা ফিরে পেয়ে মরণাপন্ন রাজকন্যা ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল। চারপাশে বয়ে গেল খুশির বন্যা। রাজা সামদ্রুপ এর কাছে সব শুনে পথ্যি যোগাড় করে পাইক পেয়াদা দিয়ে তা পাঠিয়ে দিল সামদ্রুপ এর গাঁয়ে। আর রাজকন্যার বিয়ে দিয়ে দিল সাহসী, দয়ালু আর বুদ্ধিমান সামদ্রুপ এর সাথে। সামদ্রুপ পরবর্তীতে সে রাজ্যের রাজা হয়ে সুখে দিন কাটাতে লাগল। সাহস দয়া উপস্থিত, বুদ্ধি আর ভাগ্য সহায় থাকলে সব সম্ভব এই পৃথিবীতে। আর তাইত সেই রাজ্যের নাম হয়ে গেল সামদ্রুপ ঝংখা। যা আজও ভুটানের এক শহর হিসাবে আছে।

2. লাল জুতা?

ক্যারেন খুব গরিব একটি মেয়ে। তার জুতা নেই, সে খালি পায়ে হাঁটে। একদিন এক মহিলা তাকে রাস্তায় অসহায়ের মতো পড়ে থাকতে দেখে। ক্যারেনকে দেখে তার খুব মায়া হলো। তিনি ক্যারেনকে দত্তক নিয়ে নিলেন। তারপর তাকে সুন্দর একজোড়া লাল জুতা কিনে দিলেন। আরো একটু বড় হলে ক্যারেন তার প্রিয় লাল জুতাজোড়া পরে গির্জায় যেতে চায়। গির্জায় গিয়ে উপাসনার সময় ক্যারেন শুধু তার লাল জুতা নিয়েই ভাবে। উপাসনা শেষে পালক মহিলাটি তখন ক্যারেনকে ধমকের স্বরে বলেন যে, ক্যারেন একজন উঠতি বয়সী খ্রিস্টান, গির্জায় জুতা পরে যাওয়া তার ঠিক নয়। পরবর্তী রোববারেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ক্যারেন তার লাল জুতা পরে নেয়। এবারো উপাসনাকালীন পুরো সময়টা ক্যারেন তাকে দেখতে কেমন লাগে শুধু সেসব নিয়েই ভাবে। তারপর গির্জা থেকে বের হয়ে আসার সময় তার জুতাগুলো যেন নিজেরাই নাচতে শুরু করে দিল। ক্যারেন ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিল। গাড়ির ভেতর ক্যারেন একজন বয়স্ক মহিলাকে খুব নির্দয়ভাবে লাথি মারলে গাড়োয়ান তার পা থেকে জুতাজোড়া খুলে ফেলে। বয়স্ক মহিলাটি অসুস্থ হয়ে যায়। তখন অসুস্থ মহিলাটির সেবা করা ক্যারেনেরই দায়িত্ব, কিন্তু সে তা না করে একটি বল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একজন বয়স্ক রোগীর সেবা করার কথা ভুলে গিয়ে ক্যারেন আবার তার জুতাজোড়া পরে নাচতে চায়। ক্যারেন নাচতে শুরু করলে এবার যেন তার জুতাগুলো আপনা আপনি জীবন্ত হয়ে ওঠে। তারা নাচতে নাচতে ক্যারেনকে একটি অন্ধকার গলিতে নিয়ে যায়। ভয়ে সে তার পা থেকে জুতা খুলে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু জুতাগুলো তার পায়ের সঙ্গে পুরোপুরি আটকে যায়। সে মাঠে ও ঝোপে, বৃষ্টিতে ও রোদে বহুদিন ধরে নাচতে থাকে। সমাধি ক্ষেত্রের ভেতরে নাচার সময় সে একটি পরী দেখতে পায়। পরীটি তাকে বলে যে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাকে নেচে যেতে হবে এবং সে নাচতে থাকবে যখন তার শরীরে শুধু হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না তখনো। ক্যারেন তার পায়ের চামড়া বিদীর্ণ হয়ে রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়, মরুভূমি ও কাটার ঝোপঝাড়ে অবিরাম নেচে যায়। সে অবশেষে একজন জল্লাদের কাছে এসে তার পা কেটে দেয়ার অনুরোধ জানায়, যেন সে এই নির্মম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়। জল্লাদ ক্যারেনের ইচ্ছা অনুয়ায়ী কাজটি করল। কিন্তু তার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন পায়ের সঙ্গে জুতাগুলো তখনো নেচে চলছিল| ক্যারেন জল্লাদের হাতে চুমু দেয়, যে হাত দিয়ে লোকটি ক্যারেনের পা কেটে দিয়েছিল। লোকটি তাকে কাঠের তৈরি ছোট পা ও একজোড়া ক্রাচ বানিয়ে দিল। ক্যারেন এখন তার ভুলের অনুতাপ করতে গির্জায় যেতে চায়। কিন্তু যখনই সে গির্জায় যায়, তখনই তার লাল জুতাজোড়া এসে হাজির হয় তার সামনে। তারপর গির্জার দরজার সামনে নাচতে থাকে তারা, যাতে ক্যারেন ভেতরে ঢুকতে না পারে। ক্যারেন ঘরে এসে কান্নায় চোখ ভাসায়। অবশেষে একদিন পরীটি আবার তার কাছে আসে। সে ক্যারেনের কান্না ও ভুলের অনুতাপ দেখে তার ছোট কক্ষটিকে একটি গির্জা বানিয়ে দেয়, যাতে সে প্রার্থনা করতে পারে। ক্যারেন এতটাই খুশি হয় যে একসময় তার হৃদয় গলে যায়। তারপর সে মারা যায়।

3. গম্ভীর রানী?

অনেক দিন আগের কথা, চীন দেশে ছিল এক রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘো্ড়া, রাজ্যজুড়ে সুখ আর শান্তি। রাজার প্রজা প্রতিপত্তি সব ছিল। ছিল না শুধু মনে সুখ। রাজার খালি থেকে থেকে বড় একা লাগত। আসলে সেই দেশের রাজার সব ছিল, ছিল না শুধু এক রানী। তাই এই মনের অসুখ। একদিন রাজা ঠিক করলেন যে তাঁর সৈন্য-সামন্তদের নিয়ে যাবেন রানীর সন্ধানে। যেমনটি ভাবা তেমনটি কাজ। রাজা তাঁর সব চেয়ে তেজী ঘোড়াটা আর তাঁর সাতজন সবচেয়ে বিশ্বাসী আর বলিষ্ঠ সৈন্যদের নিয়ে বেরিয়ে পরলেন রানীর সন্ধানে, দেশ থেকে দেশান্তরে। নানান দেশে যান। কত দেশের কত সুন্দরী রাজকন্যে। তাদের নানান গুণ। কিন্তু রাজার মন ভরে না। কোথাই সেই মেয়ে যে রাজার মনে এনে দেবে দু দণ্ডের শান্তি, সেই সুখ। একদিন রাজা তাঁর সৈন্যসামন্তদের নিয়ে এসে পৌঁছলেন এক হ্রদের তীরে। সন্ধ্যা নেমে আসছিল, তাই তিনি ঠিক করলেন রাতটা এখানেই থেকে যাবেন। সৈন্যদের ডেকে তিনি আদেশ দিলেন হ্রদের ধারে তাঁবু খাটাতে। রাত্রে খাবার আয়োজন চলছে, এমন সময় রাজার কানে এল এক অদ্ভুত সুন্দর সুর। রাজা সেই সুরের খোঁজে হ্রদের কাছে এসে দেখলেন একটি মেয়ে চাঁদনী আলোয় হ্রদের মধ্যে ছোটো এক নৌকা বিহার করছে। চাঁদের আলোয় সেই মেয়ের অপূর্ব মায়াবী মুখখানি দেখে রাজার বুকে অচেনা এক ঢেউ চলকে উঠল। যেন এই মেয়েকেই তিনি খুঁজে চলেছিলেন এতদিন। এই মেয়েটিই গাইছে সেই অদ্ভুত মিষ্টি গান। রাজা তাঁর সৈন্য সামন্তদের ডেকে বললেন, মেয়েটিকে ডেকে আনতে। নৌকাটি তীরে এসে পৌছল। রাজা মেয়েটিকে হাত ধরে নিয়ে এলেন পাড়ে, নিমন্ত্রণ জানালেন তাঁর সাথে নৈশভোজের। মেয়েটি সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে রাজার সাথে তাঁর তাঁবুতে এসে বসল। রাজা নানান কথার মাঝে তাকে তাঁর ভাললাগার কথা বললেন। বললেন তাকে তাঁর রানী করে দেশে নিয়ে যেতে চান। মেয়েটি শুনে জিজ্ঞেস করল তিনি তো তাকে আজই প্রথম দেখলেন, তাকে ঠিক মত চেনেনও না, তবে কেন তাকেই রানী করতে চান? সেই শুনে রাজা মেয়েটি কে সব খুলে বললেন। এও বললেন তিনি বহু দিন ধরে তারই মতো কাউকে খুঁজে চলেছিলেন দেশ-বিদেশে। রাজা তাকে আসস্ত্ব করলেন তিনি তাঁর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাকে ভরিয়ে রাখবেন। তার সমস্ত সুখের খেয়াল রাখবেন। সেই শুনে মেয়েটি তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হল। রাজার আনন্দ আর ধরে না। পরদিন ভোরবেলা তিনি তাঁর সৈন্যসামন্তদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তাঁর রাজধানীর পথে। কিন্তু এতো কথার মাঝে রাজা তো ভুলেই গেছেন মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করতে। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? মেয়েটি জানালো তার নাম জীনা। সে নানান দেশ এ ঘুরে এখানে এসেছে। কিন্তু এর বেশি সে আর কোন কোথাই বলল না। রাজা লক্ষ্য করলেন জীনা চুপচাপ। তেমন কোন কোথাই বলছে না। রাজা তাঁকে তার বিশণ্ণতার কথা জিজ্ঞেস করতে সে বলল চিন্তার কিছু নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে। রাজা ফিরে এলেন দেশে। বিয়ে করলেন তাঁর বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই মেয়েটিকে। দেশ জুড়ে তিনদিন ধরে চললো আনন্দের উৎসব। সবাই ভীষণ খুশী নতুন রানীকে পেয়ে। নানান রঙে নানান খুশীতে ভরে উঠল রাজার মন। কিন্তু হায় রানীর মুখে কোথাও হাসির দেখা নাই। রানী তাঁর সব কর্তব্য সব দায়িত্ব নিপুণ হাতে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। রানীকে পেয়ে রাজ্যের সব প্রজা ভীষণ খুশী। কিন্তু রানীর মুখে এক অদ্ভুত বিশণ্ণতা। রানীকে রাজা বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন, তাঁর কি এই প্রাসাদে কোন অসুবিধা বা মনে কোন দুঃখ আছে কিনা। রানী তাঁর কোন উত্তরই দেন না। চুপ থাকেন। রাজা তাঁর রানীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্যে কতকিছু করলেন, কত ভেলকিবাজি কত মশকরা দেখালেন, কিন্তু রানীর মুখে হাসি নেই। রাজার কোন পন্থাই কাজে দিল না রানীর মুখে হাসি ফটাতে। একদিন রাজার মাথায় এক অভিনব পন্থা এল রানীর মুখে হাসি আনার। তিনি তাঁর সবছেয়ে বিস্বস্ত্ব উপদেষ্টাকে ডেকে বললেন সন্ধ্যেবেলা তিনি যখন তাঁর নিজের কক্ষে থাকবেন রানীর সাথে তখন সে যেন এসে বলে বিদেশী সৈন্যরা এসে দরজায় উপস্থিত, তাঁর প্রাসাদ দখল হতে চলেছে। সেইদিন নৈশভোজের পর রাজা তাঁর রানীকে নিয়ে তাঁর শয়নকক্ষে ছিলেন। রাজা তাঁর পালঙ্কে বসে হস্তাঙ্কন অভ্যাস করছিলেন আর রানী তাঁর এলো চুল আঁচড়াচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর পারিষদ দৌড়োতে দৌড়াতে এসে বলল মহারাজ, বিদেশী সৈন্যরা এসে প্রাসাদের দরজায় প্রাসাদ দখল করতে এসেছে, তাড়াতাড়ি চলুন। এই শুনে রাজা তাড়াহুড়ো করে পালঙ্ক থেকে ঊঠতে গেলে তাঁর দোয়াত ঊল্টে সমস্ত কালি চোখেমুখে লেগে গেল। তাই দেখে রাণী হাসিতে ফেটে পরলেন। রাজা রাণীর এই হাসি দেখে আনন্দে লাফালাফী করতে লাগলেন। অবশেষে তাঁর পন্থা কাজে দিয়েছে। তিনি রাণীকে সব খুলে বললেন যে তিনি তাঁর মূখে হাসি ফোটানোর জন্যে এই কীর্তি করেছেন। সেই শুনে রাণী দ্বিগুণ হাসিতে ফেটে পরলেন। কিন্তু পরদিন রাণীর মুখে আবার সেই বিষণ্ণতা ফিরে এলো। রাণীর মুখে হাসি আবার কোথাই হারিয়ে গেল। রাজা ভাবলেন রাণীর অতীতে নিশ্চয় কোনো দুঃখর ঘটনা ঘটেছে, তাই তাঁর এই বিষণ্ণতা বারবার ফিরে আসে। এমন সময় রাজার এক দূত ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিল মহারাজ, বিদেশী সৈন্য এসে সিংহদুয়ার দখল করেছে, আর বেশী দেরী নেই প্রাসাদ দখল করতে। রাজা ভাবলেন সে বোধহয় রাণীর মুখে হাসি ফেরানোর জন্যে এই কথা বলছে। রাজা বললেন এই কথায় রাণী আর হাসবেনা দূত, অন্য ঊপায় ভাব। কিন্তু হায়! কোন উপায় নাই। দূত বলল মহারাজ এবার সত্যই বিদেশী সৈন্য প্রাসাদ আক্রমণ করেছে।। রাজা বাইরে এসে দেখলেন তাঁর প্রাসাদ বিদেশী সৈন্যরা ঘিরে ফেলেছে। কামানের গোলা এসে পড়ছে প্রাসাদের গায়ে। রাজা চিৎকার করে তাঁর সৈন্যদের ডাকলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বিদেশী রাজা এসে রাজার সৈন্য সামন্তদের মেরে ফেললেন। রাজাকে ও তাঁর হাতে প্রাণ দিতে হলো। বিদেশী রাজা এসে তাঁর রাজ্য, রাজপ্রাসাদ, এমনকি তাঁর রাণীও দখল করে বসল। রাজা তাঁর রাণী জিনার হাসির মাসুল দিলেন।

4. ইঁদুরের মা?

কোন এক অঞ্চলে একটি ছোট্ট গ্রাম ছিল। সেখানে বাস করত এক বুড়োবুড়ি দম্পতি। তাদের কোন ছেলেমেয়ে ছিল না। আত্মীয় স্বজন দূরসম্পৰ্কীয় বলতে কেউ নেই। বৃদ্ধের বয়স হয়েছে তাই তার শরীরের চামড়াও কুচকুচে কালো হয়ে পড়েছে। লাঠি ভর দিয়ে হাঁটতে হয়। যতই দিন যাচ্ছিল তার ভবিষ্যতের চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ল। ছেলেমেয়ে কেউ নেই বিধায় কাদের উপর নির্ভর করবে। তারা। তাদের জমানো সম্পদও পড়ে রাইবে অবেলায়। একদিন বুড়ো বুড়িকে ডেকে বলল, ও বুড়ি, তোমার এখনও ছেলেমেয়ে সন্তান পাবার আশা মিটল না । তাই তোমার জন্য একটা কন্যা সন্তান এনেছি। ঐ যে ঝুড়িটা দেখছ এরই মধ্যেই রয়েছে। ঝুড়ির ঢাকনা খুলে দেখ সুন্দর একটা কন্যারত্ব যত্ন করে রেখেছি। বুড়ি বলল, তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করছ। বুড়োকে গালমন্দ কথা বলে সে উপর থেকে ঝুড়িটা নামাল। ঝুড়ির ঢাকনা খুলে দেখল, এর মধ্যে একটি ছোট্ট ইঁদুরের বাচ্চা নড়াচড়া করছে। ছোট্ট ইঁদুর ছানাটাকে দেখতে মানুষের শিশুর মতেই মনে হয়। বুড়োকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, ও বুড়ো মানুষের শিশু কি এরকম হয়? হ্যা, দেখতে এরকমই। দেখবে, একদিন বড় হয়ে ভিন দেশের কোন রাজার সাথে বিয়ে দিব। বুড়ো বলল। ইঁদুরের বাচ্চাটি দিন দিন বড় হয়ে উঠল। লেজ গুটিয়ে ধানের উগাড়ের উপরে, চালের পাত্র বা চেক্ষুর নিকটে, কোন গর্তের ভিতরে এভাবে দৌড়াদৌড়ি করতে লাগল। চিরিক চিরিক ডাক দিয়ে ইঁদুর ছানা ঘরের কোণে গর্তের দিকে হেঁটে যাচ্ছে দেখে বুড়ো বুড়ি একপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। তাদের মনে তৃপ্তির আনন্দ জুড়ে যায়। এটা তো তাদের সন্তানতুল্য। আদর দিয়ে, খাইয়ে তারা একে বড় করতে লাগল। নিজে কাঁটা খেয়ে ইঁদুরের বাচ্চাটিকে মাছের টুকরো খাইয়ে তারা বড় করে তুলল। কাছের ঝর্ণায় কিংবা পুকুরে স্নান করিয়ে আনত। ইঁদুরের বাচ্চাটি মানুষের মত ঘর দুয়ার পরিষ্কার করে ঝাড়ু দিয়ে রাখতে পারে। ঘরে কোন কাগজের টুকরো, ময়লা আৰ্বজনা পড়লে এগুলো সব কোথায় নিয়ে যেন ফেলে দেয়। এভাবে প্রতিদিন ঘরটা পরিষ্কার করে রাখত। ইঁদুরের বাচ্চাটি বড় হল। একদিন বুড়ো দোল দিয়ে বাজনা বাজিয়ে ঘোষণা করল আমার মেয়েকে কোন রাজ রাজেশ্বর পেলে বিয়ে দিব। আমার মেয়ে কোন যুবরাজের কাছে বিয়ে দিয়ে রাজমহিষী হবার উপযুক্ত। একদিন দূর দেশের এক রাজা তার ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিল। বুড়ো রাজী হল। দিন তারিখ ঠিক হল। হাতি, ঘোড়া আর পালকিতে চড়ে রাজকুমার বিয়ে করতে এলো। গ্রামের মণ্ডপে বরের সঙ্গী যাত্রীরা ও কনের জন্য যারা উপহার নিয়ে এসেছে তারা সারি সারি বসল। মৃদঙ্গ করতাল বাজতে শুরু করল। সঙ্গে গান। কনের সাতচক্করে ঘোরার তাল বাজল। তাল বাজছে, মৃদঙ্গ-করতাল, সংগীত বাজল কিন্তু মধ্যখানে আসনে বসা বর কনেকে কোথাও দেখতে পেল না। প্রচণ্ড রেগে বর আসন থেকে উঠে দাঁড়াল। এটা কি হচ্ছে আমি বিয়ে করব না। বর বলল। বরের পিতা বৃদ্ধ রাজা পুত্রকে বুঝালেন, বললেন পুত্র আমি যে কথা দিয়ে ফেলেছি। পিতৃবাক্য অলঙ্ঘনীয়। কনে যেই হোক তাকেই বিয়ে করে বরণ করে নিতে হবে। পিতার বাক্যশ্রবণে রাজকুমার দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সংবরণ করে বিয়ের পিঁড়িতে চুপ করে বসে রইল। বিয়ে শেষ হল। ইঁদুর কন্যার জন্য ছোট্ট একটি কাছার পানিপাত্র, পরনের ছোট্ট কাপড় চোপড়, ছোট্ট বালিশ একত্র করে বেঁধে বান্ডিল বা ফিওম করে একটি ঝিনুকের পাতে সাজিয়ে রাজপ্ৰসাদে উপহার সামগ্ৰীসহ নিয়ে যাওয়া হল। রাজপুত্ৰ ভাবল, ইঁদুর কন্যার সঙ্গে বাসর ঘরে গিয়ে কি হবে! প্রতিদিন ঐ ঘরে গিয়ে দেখে তার কক্ষ পরিষ্কার পরিপাটি, কাপড়াচোপড়ও সুন্দর ভাবে সাজানো গোছানো। রাজকুমার যখন কক্ষে বসে তখন ইঁদুর কন্যা লেজ দিয়ে পরিষ্কার করে চৌকির নিচে বাহিরে দৌড়ে বেড়ায়। গ্রাম গঞ্জে কানাঘুষা শুরু হল, আহা আমাদের রাজকুমার একটা ইঁদুর কন্যাকে বিয়ে করে আনল। তার পিতার বাক্যপালন করতে গিয়ে এমনটি হল। লাজে অপমানে এসব কথা রাজকুমারকে হজম করতে হল। বাসর ঘর কে যেন লেপন করে মুছে পরিষ্কার করে রাখে অনুমান করা কঠিন হল। রাজার পাইক পেয়াদাকে জিজ্ঞেস করে ও এর উত্তর পাওয়া গেল না। একদিন রাজকুমার বাহিরে যাবার ছল করে আত্মগোপন করে রইল। দেখল, ইঁদুর কন্যা গায়ের চামড়ার খোলস বদল করে অগোচরে রাণীর বেশ ধারন করছে। তার উজ্জ্বল মুখখানি সমস্ত কক্ষে ঝলমলে করে উঠল। রাজকুমার তা দেখে মাথা ঘুরিয়ে গেল। তৎক্ষণাৎ সে মাটিতে পড়ে গেল। তা দেখে রাণী আবার ইদুর হল। প্রাসাদের আয়ুৰ্বেদী ডাক্তার ডেকে রাজকুমারকে চিকিৎসা করে সুস্থ করা হল। পরদিন আবার রাজকুমার লুকিয়ে রইল। ইঁদুরকন্যা তার গায়ের চামড়া বদল করে রাণী সাজল। রাজকুমার ইঁদুরের চামড়াটি পুড়িয়ে দিল এবং রাজকন্যাকে আবেগে ভালবাসায় জড়িয়ে ধরল। আ হা হা! একি করলে রাজকুমার! আমি এক ঋষির অভিশাপে ইঁদুর কন্যা হয়ে আছি। আর মাত্র দুদিন হলেই আমার অভিশাপের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আর আমি পূর্ণ মানবী রাজকুমারী হতে পারতাম। আমি নিজে থেকে আপন রূপ খুঁজে পেতাম। যাও আর আমাকে স্পর্শ কর না। একটি লেপ দিয়ে তুমি আমায় আরও দু'দিন ঢেকে রাখা! দুদিন পর তুমি আমার কাছে এসো। রাজকুমার সেই ব্যবস্থা নিল। দুদিন পর ইঁদুর কন্যা রাজরাণী হয়ে উঠল। তারা সুখে শান্তিতে বাস করল। রাজা বুড়ো-বুড়ি দুজনকে ডেকে এনে সংবর্ধনা দিল।

5. জাদুর পাথর?

একদিন যুবক নদীতে মাছ ধরতে গেলো। কিছু মাছ ধরার পর মাছগুলো কেটে সে নাড়ি ভুঁড়ি কুকুরকে খেতে দিলো। কুকুর যখন নাড়ি ভুঁড়ি খাচ্ছিলো, আচমকা তাতে একটি ছোট পাথর পাওয়া গেলো, যা সূর্যের মতো ঝলমল করে জ্বলছিলো। যুবক পাথরটি দেখে আনন্দে লাফিয়ে উঠলো। কেননা এটি ছিলো একটি জাদুর পাথর। যার সম্পর্কে লোকমুখে অনেক কথা প্রচারিত ছিলো। সে পাথর উঠিয়ে হাতে রেখে বললো হে জাদুর পাথর! আমার জন্য খাবার নিয়ে এসো। কথা শেষ করে ফিরতেই বিস্ময়ে সে থমকে গেলো। মুহূর্তের মধ্যে তার সামনে প্রায় বিশ প্রকারের এমনসব খাবার উপস্থিত হয়েছে, যা ছিলো অনন্য এবং অত্যন্ত সুস্বাদু। বালক তার তার জীবনে স্বপ্নেও কখনো এসব খাদ্য দেখেনি। সে উদর ভর্তি করে খাবার খেলো। এরপর দৌড়ে সে ঘরে ফিরে আসলো এবং জাদুর পাথর তার মাকে দেখালো। মা বেশ খুশী হলেন। সেদিন থেকে মা ছেলে সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগলেন। একদিন যুবক শহরে গেলো। সেখানে চলাকালীন আচমকা সে এক সুন্দরী রমণীকে দেখতে পেলো। খবর নিয়ে জানতে পারলো, মেয়েটি রাজকুমারী। মেয়েটিকে তার এতো ভালো লাগলো যে, তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলো। ঘরে ফিরে সে তার ইচ্ছার কথা মাকে বললো। মা সবকিছু শুনে চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন বাবা! তুমি জানো মেয়েটি রাজার মেয়ে। আমি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারবো না। কিন্তু ছেলে পীড়াপীড়ি করতে লাগলো। অবশেষে মা রাজি হয়ে গেলেন। বললেন যাওয়ার জন্য তো বারবার আবদার করছো। আমি অবশ্যই যাবো। কিন্তু মনে রেখো! বাদশাহর পরিবারে সম্পর্ক করে কেউ সুখী হয়নি। যাক, রাতের আঁধারে মা শাহী প্রাসাদের দরজায় পৌঁছে গেলেন এবং সম্মুখস্থ রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে দিলেন। ভোরে যখন বাদশাহ মহল থেকে বের হলেন, দরজার সামনের পুরো রাস্তা পরিচ্ছন্ন দেখতে পেয়ে অবাক হলেন। পরদিন ভোরেও যখন বের হলেন, একই অবস্থা দেখলেন। তিনি আরো বেশি অবাক হলেন এবং দরজার সামনে পাহারাদার নিযুক্ত করলেন। তৃতীয়দিন ভোরে পাহারাদার একজন মহিলাকে ধরে বাদশাহর সামনে উপস্থিত করলো। বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন বলো! তুমি প্রতিদিন রাতে আমার প্রাসাদের সামনের রাস্তা কেন ঝাড়ু দিচ্ছো? মহিলা বললেন বাদশাহ নামদার! আমি একজন নিঃস্ব বিধবা। আমার একটি মাত্র ছেলে। আমি আপনার মেয়ের সাথে তার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। কিন্তু আপনার সামনে আসার সাহস হচ্ছিলো না। আর আপনার পাহারাদারও তো আসতে দিতো না। একজন দরিদ্র মহিলার এমন হাস্যকর প্রস্তাব শুনে বাদশাহ রেগে উঠলেন। জল্লাদকে নির্দেশ দিলেন মহিলাকে হত্যা করে ফেলো। কিন্তু বাদশাহর ডানপাশে থাকা উজির বললেন বাদশাহ নামদার! বেচারি মহিলাকে হত্যা করার কি দরকার! এমন কোনো শর্ত দিয়ে দিন, যা পূর্ণ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। তখন সে নিজেই মহলে আসা বন্ধ করে দিবে। উজিরের প্রস্তাব বাদশাহর পছন্দ হলো। তিনি মহিলাকে বললেন যাও! নিজেরে ছেলেকে গিয়ে বলো, আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইলে সে চল্লিশটি উট-ভর্তি স্বর্ণ যেন আমার কাছে পাঠায়। মহিলা হতাশ হয়ে ভাবলেন আমরা একেবারে নিঃস্ব। কিভাবে এতো স্বর্ণ যোগাড় করবো! এরপর মহল থেকে বেরিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন। বাড়িতে পৌঁছে বাদশাহর দেয়া শর্ত যখন ছেলেকে বললেন, তখন ছেলে বললো আম্মি! আপনি এসব নিয়ে মোটেও ভাববেন না। অতঃপর সে জাদুর পাথরকে হাতে নিয়ে কিছু একটা বললো। ভোর হতেই ৪০ উট ভর্তি স্বর্ণ মহিলার বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত। ছেলে এবার মাকে বললো আম্মু, আপনি এসব উট নিয়ে বাদশাহর কাছে যান। মা বেশ অবাক হলেন। কিন্তু কোনো প্রশ্ন ছাড়াই স্বর্ণ ভর্তি ৪০ টি উট নিয়ে বাদশার দরবারে পৌঁছুলেন। সবকিছু দেখে বাদশাহ বেশ অবাক হলেন। কিন্তু তিনি তৎক্ষণাৎ আরেকটি শর্ত দিয়ে দিলেন। তিনি মহিলাকে বললেন; তুমি তোমার ছেলেকে গিয়ে বলো, সে যেন তার স্ত্রীকে রাখার জন্য নিখাদ স্বর্ণ দিয়ে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে। তারপর বিয়ের প্রস্তাব প্রেরণ করে। মা আগের চেয়ে বেশি হতাশ হলেন এবং বিমর্ষ হয়ে ঘরে ফিরে বাদশাহর নতুন শর্তের কথা ছেলেকে বললেন। ছেলে মায়ের কথা মনোযোগ সহকারে শুনে বললো আম্মু! আপনি ভাববেন না। নিখাদ স্বর্ণের মহলও প্রস্তুত হয়ে যাবে। ভোর হতেই নদীর তীরে নিখাদ স্বর্ণের একটি আলিশান প্রাসাদ নির্মিত হয়ে গেলো। এমন মহল ইতিপূর্বে কোথাও কেউ দেখেনি। মা তখন বাদশাহর কাছে গিয়ে বললেন মহামান্য বাদশাহ! মহল তৈরি হয়ে গেছে। একটু বাইরে গিয়ে দেখে আসুন। বাদশাহ তার উজিরদের সাথে বাইরে আসলেন এবং মহল দেখে চমকে উঠলেন। এবার আর বাহানা তৈরির কোনো সুযোগ তার সামনে ছিলো না। তিনি নিঃস্ব মহিলার ছেলের সাথে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলেন।

সমাপ্ত

আমরা প্রতিদিন এই ওয়েবসাইটে নতুন নতুন পোস্ট পাবলিক করি, আপনারা যদি আমাদের পোস্ট গুলো সবার আগে পড়তে চান, তাহলে এখনই আমাদের মোবাইল এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ফেলুন, পরবর্তীতে কোন বিষয়ের উপর পোস্ট দেখতে চান নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন, সবাই ভালো থাকবেন সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Post a Comment

দয়াকরে কমেন্টে আপনার মূল্যবান মতামতটি জানিয়ে দিবেন।

Previous Post Next Post
close